চীনের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা ভাবছেন ট্রাম্প

ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প আরো ঘোষণা করেন যে, তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপরও শুল্ক আরোপ করবেন। তিনি বলেন, চীন একটি শোষণকারী দেশ, তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আমাদের প্রতি খুব খারাপ আচরণ করে। তাই তাদের ওপর শুল্ক আরোপ করা হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ফেব্রুয়ারির ১ তারিখ থেকেই চীনে তৈরি পণ্য আমদানির ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিষয় বিবেচনা করছেন। ট্রাম্প বলেন, তার প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা এই ভিত্তিতে হচ্ছে যে, মেক্সিকো এবং কানাডায় ফেন্টানাইল পাঠাচ্ছে চীন। খবর বিবিসি।

এর আগে, মেক্সিকো এবং কানাডার ওপর ২৫ শতাংশ আমদানি কর আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। দেশ দুটির বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসী এবং মাদক প্রবেশ করতে দিচ্ছে কানাডা ও মেক্সিকো।

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প আরো ঘোষণা করেন যে, তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপরও শুল্ক আরোপ করবেন। তিনি বলেন, চীন একটি শোষণকারী দেশ, তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আমাদের প্রতি খুব খারাপ আচরণ করে। তাই তাদের ওপর শুল্ক আরোপ করা হবে। এটিই একমাত্র উপায় যাতে আপনি ন্যায্যতা ফিরে পেতে পারেন।

সোমবার শপথ গ্রহণের পরপরই নতুন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফেডারেল সংস্থাগুলোকে বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তিগুলো পর্যালোচনা এবং মার্কিন বাণিজ্যিক অংশীদারদের দ্বারা অন্যায্য চর্চাসমূহ চিহ্নিত করার নির্দেশ দেন।

নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প চীনের পণ্যের ওপর ৬০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

অন্যদিকে, কানাডার ওপর আমদানি শুল্ক আরোপের হুমকি আগেও দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এবারের হুমকির পর কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এই হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, যদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট শুল্ক আরোপ করার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে কানাডা প্রতিক্রিয়া জানাবে এবং সবকিছুই আলোচনার টেবিলে থাকবে।

অটোয়া পাল্টা শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ শুল্ক বিলিয়ন ডলার মূল্যের হতে পারে।

উল্লেখ্য, কানাডা, চীন এবং মেক্সিকো হল যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বাণিজ্যিক অংশীদার। তবে শুল্ক ট্রাম্পের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি বিশ্বাস করেন, এগুলো প্রবৃদ্ধি বাড়াতে, চাকরি রক্ষা করতে এবং কর রাজস্ব বৃদ্ধি করতে পারে।

আরও